মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগ। মঙ্গলবার গভর্নরের কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ভিডিও ফাঁসের এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিতর্কিত পরিবহন ব্যবসায়ী খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাহীনুল। গত বছরের নভেম্বরে এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০টি অ্যাকাউন্টে ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর মাধ্যমে চারটি অ্যাকাউন্ট পুনরায় ফ্রিজ না করে ১৯ কোটি টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ করছে, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হলেও হিসাবগুলোতে পাওয়া গেছে ১০১ কোটি টাকা। বাকি অর্থ তোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে।

এএফএম শাহীনুল ইসলাম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এমন সুযোগ দেওয়া হয়। দুদক চাইলে আমি ব্যাখ্যা দেব।” আপত্তিকর ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “আমাকে হেয় করার জন্য এগুলো ছড়ানো হয়েছে, এগুলো ভুয়া।”

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভিডিও ছড়াতে শুরু করে এবং সোমবার তা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৮ আগস্ট পদত্যাগ করেন তৎকালীন বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে শাহীনুল ইসলামকে প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশে তার নাম ছিল না; অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগ হওয়ায় তখন থেকেই তা নিয়ে বিতর্ক চলছিল।

Share.
Exit mobile version