মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি উদ্যোগে নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যস্ত। আগামীকাল (১২ অক্টোবর) রোববার তিনি মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন ও শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু পুরস্কারটি ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর হাতে যাওয়ায় হতাশ হোয়াইট হাউস নরওয়ের নোবেল কমিটির সমালোচনা করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, কমিটি ‘শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে’।

হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, ট্রাম্প রোববার রাতে ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হবেন। সোমবার তিনি সেখানে ভাষণ দেবেন এবং মঙ্গলবার মিসরে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ওয়াশিংটন থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, আলোচনায় ভূমিকা রাখার কারণে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই ট্রাম্পের প্রশংসা করেছে।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করতে ট্রাম্পকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামেদ এলমাসরি বলেন, “ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে চাপ দিতে চাইছেন যাতে জিম্মিদের মুক্তির পর ইসরায়েল আবার হামলা শুরু না করে। আশা করা যায়, তিনি এবার বাস্তব পদক্ষেপ নেবেন।”

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ডিসির আরব সেন্টারের ফিলিস্তিন–ইসরায়েল কর্মসূচির প্রধান ইউসুফ মুনায়ের মনে করেন, গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের অভিযানের পরও জিম্মিদের মুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, “ইসরায়েল এখন রাজনৈতিক চাপের মুখে, আর সেই সুযোগেই এই যুদ্ধবিরতি এসেছে।”

দুই বছর ধরে ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে চলা আলোচনার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত এলো। আন্তর্জাতিক মহল বলছে, এখন দেখার বিষয়—এই যুদ্ধবিরতি কেবল কূটনৈতিক প্রদর্শনী হয়ে থাকে, নাকি সত্যিকারের স্থায়ী শান্তির সূচনা ঘটায়।

Share.
Exit mobile version