মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধকে ঘিরে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে সংঘর্ষে ভয়াবহ উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহত শ্রমিকের নাম হাবিবুর রহমান (২০)। তিনি ইকু ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি নিটিং কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাজীরহাট গ্রামে।

হাবিবুরের ভাই আশিকুর রহমান জানান, “ভাইয়ের নাইট ডিউটি ছিল। কাজ শেষে সকালে বের হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।”

স্থানীয় শ্রমিকেরা জানান, সম্প্রতি এভারগ্রিন নামের একটি পোশাক কারখানা ৫১ জন কর্মীকে ছাঁটাই করে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যেই আজ সকাল থেকে বেতন–ভাতা না দিয়েই হঠাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রধান ফটকে ঝোলানো নোটিশ দেখে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সড়কে নেমে আসেন। এতে নীলফামারী–সৈয়দপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী শ্রমিকদের সরাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হলে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হাবিবুর রহমান। আহত অন্তত ১০ শ্রমিককে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারহান তানভিরুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে হাবিবুরকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। আরও ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ময়নাতদন্তের পর নিহত শ্রমিকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।

আহতদের মধ্যে আছেন মোমিনুর রহমান (২৫), মো. শাহিন (২৬), নুর আলম (৩০), মোস্তাক আহমেদ (২৫), লিপি আক্তার (২৬) ও জমিলা খাতুন (৩৫)।

এ বিষয়ে উত্তরা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। উত্তরা ইপিজেডে সংঘর্ষে নিহত ও  আহতদের সম্পর্কে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর থানার ওসি এম আর সাঈদ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, “আমরা এখনো সড়কে আছি। একজন মারা যাওয়ার খবর পাচ্ছি, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

Share.
Exit mobile version