মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

দীর্ঘ ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীবিচ্ছিন্ন নির্বাচন হিসেবে পরিচিত এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। টানা ১৩ দিনের প্রচারণার পর ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হয়েছেন।

নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ডাকসুতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯,৭৭৫ জন, এর মধ্যে ২০,৮৭৩ জন ছাত্র ও ১৮,৯০২ জন ছাত্রী। ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এছাড়া, ১৮টি হল সংসদে ২৩৪টি পদের জন্য ১,০৩৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের ডাকসু নির্বাচনে ব্যালটের আকার বেড়েছে; পাঁচ পৃষ্ঠার ব্যালট ব্যবহার করা হবে, আর হল সংসদের জন্য এক পৃষ্ঠার ব্যালট প্রস্তুত করা হয়েছে। ভোট দেওয়ার জন্য প্রত্যেক ভোটারের জন্য আট মিনিটের সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ক্যাম্পাসের ৮টি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হলো – কার্জন হল কেন্দ্র, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্র, সিনেট ভবন কেন্দ্র, উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্র এবং ইউ ল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র। নির্বাচনের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চক্রাকারে শাটল সার্ভিস পরিচালনা করছে। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকাল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শাটল ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সংযুক্ত রাখছে।

ভোটাররা পরিচয় যাচাই শেষে অমোচনীয় কালির দাগসহ ভোট দিতে পারবেন। প্রতিটি ভোটারকে গোপন কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর পাশে ক্রস চিহ্ন দিতে হবে এবং নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ভোট জমা দিতে হবে। বিশেষভাবে ৩০ জন শিক্ষার্থী ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে গণনা কার্যক্রম প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে। চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এই প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন।

এই নির্বাচনে ৯টি প্রধান প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এগুলো হলো – গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, ছাত্রদলের প্যানেল, ছাত্রশিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র ঐক্যজোট’, বামপন্থী শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’, স্বতন্ত্র প্যানেল ‘ডিইউ ফার্স্ট’ এবং তিনটি বাম জোটের ‘অপরাজেয় ৭১–অদম্য ২৪’।

ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক, মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদকসহ মোট ২৮টি পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সদস্য পদে সর্বোচ্চ ১৩টি পদের বিপরীতে ২১৭ জন প্রার্থী লড়ছেন।

সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে নুরুল হক নুর ভিপি, গোলাম রাব্বানী জিএস এবং সাদ্দাম হোসেন এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের দাবিতে নতুন ৪টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন রাজনৈতিক জাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা তাদের প্রিয় প্রার্থী বেছে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক প্রথার অংশীদার হতে পারবেন।

Share.
Exit mobile version