মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বুধবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরোপিত শুল্ক কার্যকর রাখার জন্য দ্রুত শুনানি চালুর আবেদন করেছে। এসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (International Emergency Economic Powers Act—IEEPA) অনুযায়ী, যা জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। তবে সম্প্রতি একটি ফেডারেল আপিল আদালত রায় দিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট এ আইন ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রাখেন না।

বিচার বিভাগ ২৯ আগস্ট দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপ সংবিধানবিরোধী।

ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, সুপ্রিম কোর্ট যেন ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মামলাটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং নভেম্বর মাসেই শুনানি শুরু করে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের নতুন অধিবেশন শুরু হবে ৬ অক্টোবর।

সরকারের পক্ষে দায়ের করা আবেদনে সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার উল্লেখ করেন, “এই মামলার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর মন্ত্রিসভা বিশ্বাস করেন, শুল্ক আরোপ শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াচ্ছে। অথচ শুল্ক কর্তৃত্ব হারালে দেশ বাণিজ্যিক প্রতিশোধের মুখে পড়বে এবং অর্থনীতি আবার বিপর্যয়ের দিকে যাবে।”

অন্যদিকে ছোট ব্যবসায়ীরা, যারা শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে, তারাও সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির বিরোধিতা করেনি। লিবার্টি জাস্টিস সেন্টারের আইনজীবী জেফ্রি শোয়াব বলেন, “অবৈধ এই শুল্ক ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা দ্রুত সমাধান আশা করছি।”

২০১৭ সালে শুরু হওয়া ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে এসব শুল্ক আরোপ করা হয়। তিনি শুল্ককে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। চীন, কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক বসিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মাদকদ্রব্য ও বিশেষ করে ফেন্টানিল পাচার ঠেকাতে চাপ প্রয়োগই ছিল লক্ষ্য।

তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইইইপিএ সাধারণত শত্রু রাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সম্পদ জব্দে ব্যবহৃত হয়েছে, শুল্ক আরোপে নয়। তাই আদালত মনে করছে, কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে এভাবে সীমাহীন ক্ষমতা দিতে চায়নি।

ইতিমধ্যেই একাধিক আদালত ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করেছে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত গত ২৮ মে রায়ে জানায়, প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওয়াশিংটন ডিসির একটি আদালতও একই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। অন্তত আটটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের করা মামলাও রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি শুধু নয়, অন্যান্য অর্থনৈতিক নীতি নিয়েও আদালতে লড়াই চলছে। বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে ট্রাম্পের পুরো অর্থনৈতিক এজেন্ডা বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Share.
Exit mobile version