মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর এবং সর্বজনীন অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এ নির্বাচনে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না এবং এটি হবে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছার প্রতিফলন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাতটি রাজনৈতিক দল ও একটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা এ বক্তব্য দেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন নয়, বরং দেশের সব মানুষের এবং সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচন। তিনি একে ‘ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণের নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এবারের নির্বাচন হবে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর, সাহস অর্জনের এবং নিজস্ব ভঙ্গিতে দেশ পরিচালনার নির্বাচন। এই নির্বাচনে অন্য কোনো দেশের থাবা মারার কোনো সুযোগ থাকবে না।”

বৈঠকে এবি পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণফ্রন্ট এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অংশ নেয়।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। অনেকে গণ্ডগোল তৈরির চেষ্টা করতে পারে, তাই সবার সতর্ক থাকতে হবে। আশা করি, এবারের দুর্গাপূজাও উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন হবে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে। যারা আগে কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, অতীতে যারা ভোট দেওয়ার সময় তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তারাও যেন এবার সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছাতে দিতে চায় না, তারা নানা উপায়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। এর কিছু লক্ষণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, সামনে আরও বাড়তে পারে। এজন্য আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।”

জাতীয় নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগের পাশাপাশি নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টা সফল হবে না জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচন করা। নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।”

Share.
Exit mobile version