মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

“সরকারের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও হত্যায় পুলিশের নেতৃত্ব দিয়েছি—এ জন্য আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত এবং জনগণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।” —এই ভাষায় নিজের জবানবন্দি শেষ করেছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দায় স্বীকার করে তিনি ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুসারে ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া জবানবন্দির পাঁচ পৃষ্ঠাজুড়ে তিনি বর্ণনা করেন, কীভাবে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলন দমনে সহিংস পন্থা অবলম্বন করে।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর (তৎকালীন) নির্দেশে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। আমরা আন্দোলনপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড পরিচালনা করি। ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয় হেলিকপ্টার থেকে। এসবই ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।”

চৌধুরী মামুন আরও বলেন, “র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে গুম, গোপন বন্দিশালা, বিনা বিচারে আটক ও নির্যাতন—এসব ছিল র‍্যাবের সংস্কৃতি। টিএফআই সেল পরিচালিত হতো উত্তরার র‍্যাব-১-এর কম্পাউন্ডে। এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকের কাছ থেকে।”

তিনি জবানবন্দিতে স্বীকার করেন, পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব পালনের বদলে রাজনৈতিক নির্দেশ বাস্তবায়নে অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়েছিলেন অনেকে। “২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাতেই ব্যালট বাক্সে সিল মারা হয়েছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে,” বলেন মামুন।

আত্মসমালোচনায় ভরপুর জবানবন্দির শেষে তিনি বলেন, “আমি আমার ভূমিকাসহ পুলিশের এই অপব্যবহার, জনগণের ওপর নির্মম আচরণের জন্য অনুতপ্ত। আমি সত্য প্রকাশ করছি যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন পথে না হাঁটে।”

বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলায় সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

Share.
Exit mobile version