আগামী জাতীয় নির্বাচন ও পরবর্তী সরকারের মন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের জন্য ২৮০টি গাড়ি কিনছে সরকার। এর মধ্যে আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি , জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের জন্য থাকছে ১৯৫টি পাজেরো ও ২৫টি মাইক্রোবাস। মোট গাড়ি কেনায় ব্যয় হবে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২১ আগস্ট অর্থ বিভাগের কাছে এই প্রস্তাব পাঠায়। প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান পরিবহন পুলে থাকা গাড়িগুলোর অধিকাংশই ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেনা, যা বারবার মেরামতের কারণে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দায়িত্ব পালনে এসব গাড়ি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।
গাড়িগুলো সরাসরি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে কেনা হবে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে। প্রতিটি মিতসুবিশি পাজেরো জিপের দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং প্রতিটি মাইক্রোবাসের দাম ৫২ লাখ টাকা। এই ২২০টি গাড়ি কিনতে খরচ হবে ৩৪৩ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনায় অতিরিক্ত খরচসহ মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে যানবাহন ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩২৮ কোটি টাকা। তবে নতুন গাড়ি কেনায় খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ৪৪৫ কোটি টাকার বেশি। অর্থ বিভাগ অতিরিক্ত ৯৬ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে অন্য খাত থেকে।
তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ৮ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার এক পরিপত্রে জানিয়েছিল, চলতি অর্থবছরে নতুন কোনো যানবাহন কেনা যাবে না। কেবল ১০ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি ব্যবহারের অনুপযোগী হলে অনুমোদন নিয়ে প্রতিস্থাপক গাড়ি কেনা যাবে। অথচ বর্তমান পরিবহন পুলে থাকা গাড়িগুলোর বয়স ৯ বছর। ফলে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পরিপত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমান বলেছেন, মন্ত্রীদের ব্যবহারের গাড়িগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাই নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “পরবর্তী সরকার বা মন্ত্রীরা কী গাড়ি ব্যবহার করবেন, তা নির্ধারণ বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া অনভিপ্রেত এবং পরিপত্রের ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপেরও লঙ্ঘন।” তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান।
