সোমবার | মার্চ ২ | ২০২৬

দ্রুত প্রসারমান বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে প্রবেশের কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ‘হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ স্থাপনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার হালাল শিল্প খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “চলুন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিই।”

বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হালাল-বিষয়ক সমন্বয়ক দাতিন পদুকা হাজাহ হাকিমাহ বিনতি মোহাম্মদ ইউসুফ। উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার ইসলামী উন্নয়ন বিভাগের (জেএকেআইএম) মহাপরিচালক সিরাজউদ্দিন বিন সুহাইমি এবং হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (এইচডিসি) প্রধান নির্বাহী হাইরল আরিফেইন সাহারি।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই বাজারে মালয়েশিয়া অন্তত ১৪টি হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক পরিচালনা করে এবং থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অবকাঠামো ও হালাল সনদ প্রদানের সক্ষমতা উন্নত করতে পারলে এই বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ একমাত্র অনুমোদিত সংস্থা, যারা হালাল পণ্যের সনদ প্রদান করে। তবে এ পর্যন্ত মাত্র ১২৪টি প্রতিষ্ঠান এই সনদ পেয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বৈঠকে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “হালাল শিল্প গড়ে তুলতে কী কী প্রয়োজন, আমরা যৌথভাবে নির্ধারণ করতে পারি।” তিনি উল্লেখ করেন, অনেক বাংলাদেশি কোম্পানি ইতিমধ্যে হালাল সার্টিফাইড পণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী।

অধ্যাপক ইউনূস বৈঠকটিকে মূল্যবান শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আপনাদের তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। এটি যেন হালাল পণ্যের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ক্লাস।”

এর একদিন আগে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া হালাল ইকোসিস্টেম উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা নোট বিনিময় করে, যা কর্মকর্তারা ‘হালাল কূটনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মালয়েশিয়ার জেএকেআইএম মহাপরিচালক সিরাজউদ্দিন জানান, স্থানীয় চাহিদা মূল্যায়নের জন্য তারা শিগগিরই একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠাবেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লতফি সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ।

Share.
Exit mobile version