মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা সহিংসতা ও সংঘর্ষের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গা সংকট দেখা দিয়েছে। অন্তত তিন থেকে চার শতাধিক রোহিঙ্গা নাফ নদীর ওপারে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে। তবে সীমান্তে কড়া নিরাপত্তার কারণে তারা পার হতে পারছেন না।

রোববার (১৭ আগস্ট) রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৭ এর নেতা মোহাম্মদ কামাল জানান, প্রতিদিন কিছু রোহিঙ্গা সীমান্ত ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। বর্তমানে ৩০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারের লালদ্বীপের কাছে জাইল্যা দ্বীপে আশ্রয় নিয়েছে, তবে সীমান্তের এপারে তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যের দখল নিতে জান্তা বাহিনী বোমাবর্ষণ করছে। একইসঙ্গে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে সাধারণ রোহিঙ্গারা চরম বিপদের মুখে পড়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে রোহিঙ্গা প্রবেশের আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবে তিন দিন আগে মংডু এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে।”

বিজিবি টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, কঠোর নজরদারির কারণে অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধ করা যাচ্ছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় নৌকা প্রবেশও বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্তের ওপারে আটকা পড়েছে।

সম্প্রতি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারেও আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘ ও সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর মধ্যেই গত ১৮ মাসে অন্তত দেড় লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

Share.
Exit mobile version