সোমবার | মার্চ ২ | ২০২৬

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দিন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩১ বিলিয়ন ৩৩ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মানদণ্ড বিপিএম–৬ অনুযায়ী হিসাব করলে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬ বিলিয়ন ৩১ লাখ ডলারে।

গত রোববার (২৪ আগস্ট) গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম–৬ অনুযায়ী ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। তবে গত জুলাইর প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ২০২ কোটি ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ কমে গিয়েছিল। তখন গ্রস রিজার্ভ নেমে আসে ২৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে এবং বিপিএম–৬ অনুযায়ী নেমে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে।

গ্রস রিজার্ভে দেশের হাতে থাকা মোট বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব ধরে করা হয়। তবে আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী বিপিএম–৬ রিজার্ভ হিসাব করার সময় আমদানি পরিশোধের জন্য অগ্রিম জমা, অন্যান্য দেশের কাছে রাখা স্বল্পমেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগসহ কিছু অর্থ বাদ দেওয়া হয়। ফলে গ্রস রিজার্ভ সবসময় বিপিএম–৬’র তুলনায় বেশি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ঋণপ্রবাহ রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত জুন শেষে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময় বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে এরপর থেকে ধারাবাহিক পতনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে গত জুলাই শেষে রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ এবং হুন্ডি কমে যাওয়ায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে। চলতি অর্থবছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৪১২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের জুন থেকে আইএমএফের শর্ত মেনে বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব করছে। সেই সময় গ্রোস রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। এখন তুলনামূলকভাবে অবস্থার উন্নতি স্পষ্ট হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ধারাবাহিক রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

Share.
Exit mobile version