মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে হোয়াইট হাউস। ওয়াশিংটনে টানা কয়েক দফা আলোচনার শেষ রাউন্ডে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান রক্ষা পেল।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) হোয়াইট হাউস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেয়। জানানো হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অফিসের (USTR) মধ্যে চূড়ান্ত বৈঠকের পর নতুন শুল্ক হার নির্ধারিত হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ যে ২০ শতাংশ শুল্ক হারে সম্মত হয়েছে, তা ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশের বর্তমান শুল্ক হারের সমপর্যায়ের।

ভারতের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থান

বৈঠকে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় ভারত ২৫ শতাংশ শুল্কে আটকে গেছে। এই দিক থেকে বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং আলোচক দলের প্রধান ড. খালিলুর রহমান বলেন, “আমরা আমাদের সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “পোশাক খাতের সুরক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল, পাশাপাশি আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।”

“৩৫% শুল্ক এড়াতে পেরেছি”

ড. খালিল বলেন, “আজ আমরা ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কের ঝুঁকি এড়াতে পেরেছি। এটি আমাদের টেক্সটাইল খাত এবং লাখো কর্মসংস্থানের জন্য সুসংবাদ। পাশাপাশি আমরা বিশ্ববাজারে আমাদের প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে পেরেছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৃহৎ ভোক্তা বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ পেয়েছি।”

ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক ঘোষণা

একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ৭০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার আগে ১ আগস্টের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

এই চুক্তিগুলোর আওতায় শুধু শুল্ক নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতিগত সংস্কার, অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য বাধা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতেও সমঝোতার প্রয়োজন পড়ে। প্রতিটি দেশের প্রতিশ্রুতির গভতা অনুসারে শুল্ক হার নির্ধারণ করা হয়—ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

Share.
Exit mobile version