মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

ভারতের প্রধান বস্ত্র রপ্তানি কেন্দ্র তিরুপ্পুরে পোশাক শিল্পে ভীতিকর নীরবতা বিরাজ করছে। প্রায় ২০০টি শিল্প-সেলাই মেশিনের মধ্যে মাত্র কয়েকটি কাজ করছে। শ্রমিকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় খুচরা বিক্রেতাদের শেষ অর্ডার শেষ করার ব্যস্ততায় রয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে নতুন ডিজাইনের কাপড়ের নমুনা ব্যবহার ছাড়া ধূলিধূসর অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভারতের পোশাক, চিংড়ি, হীরা ও গহনার মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা।

তিরুপ্পুরের রেডি-টু-ওয়্যার শিল্প ভারতের রপ্তানির এক তৃতীয়াংশে অবদান রাখে। তবে শুল্কের কারণে অনেক অর্ডার স্থগিত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বন্ধ করেছেন। অনেক শ্রমিককে বিশ্রামে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে ক্রিসমাসের বিক্রির মরসুমে এই পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাফ্ট গার্মেন্টসের মালিক শিবা সুব্রামনিয়াম বলেন, “পুরো উৎপাদন চেইন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শ্রমিকদের বেতন দেওয়া আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।” শুল্কের কারণে ভারতীয় তৈরি একটি শার্ট যা আগে ১০ ডলারে বিক্রি হতো, এখন মার্কিন ক্রেতাদের জন্য ১৬.৪ ডলার খরচ হবে। এটি চীন, বাংলাদেশ বা ভিয়েতনামের তুলনায় অনেক বেশি।

শুল্কের প্রভাব শুধু পোশাক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। মুম্বাইয়ের হীরা ও জহরের রপ্তানিতেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। Creation Jewellery-এর মালিক আদিল কোটওয়াল জানান, মার্কিন বাজারে তার হীরার বিক্রির ৯০ শতাংশ কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত শুল্ক বহন করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব।

শ্রমিক সংখ্যা হ্রাস, বেতন কমানো এবং বাধ্যতামূলক ছুটির কারণে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। চিংড়ি রপ্তানিও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে প্রতি কিলোগ্রামের দাম কমেছে। হ্যাচারিতে লার্ভা উৎপাদন কমেছে। প্রায় এক লাখ চিংড়ি চাষীর জীবিকা সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন শুল্কের কারণে রপ্তানি অন্য দেশে স্থানান্তরিত হতে পারে। মার্কিন ক্রেতারা ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ বা মেক্সিকোতে চলে যেতে পারে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাজার বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছেন। তবে অনেকের কাছে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট মনে হচ্ছে না।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের নীতিনির্ধারক এবং শিল্প নেতাদের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো আত্মনির্ভরতা বাড়ানো, নতুন বাজার তৈরি করা এবং কোনো রপ্তানি সুযোগ হাতছাড়া না করা। মার্কিন শুল্ক ও বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত ও কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

Share.
Exit mobile version