নিয়ামতপুর( নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর নিয়ামতপুরে মাদক ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহার থেকে যুবসমাজকে দূরে রেখে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে নওগাঁর নিয়ামতপুরে দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার ভাবিচা পশ্চিমপাড়া তরুণ যুব সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফুটবল টুর্নামেন্টে স্থানীয় তরুণ-যুবকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিই ছিল আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
টুর্নামেন্টে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম কাউসারুল ইসলাম রতনের সঞ্চালনায় এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ রানা লিটনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ সোনার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জহরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার সাহা, সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম আশরাফ, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ডালিম বর্মন, নিয়ামতপুর ইমারত ও শ্রমিকদলের সভাপতি সেকেন্দার আলী কৃষকদলের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দীন, বিজল কুমার মণ্ডল, সুবোধ চন্দ্র সরকার, জিয়া
সৈনিক দলের নিয়ামতপুর উপজেলা শাখার কৃষিবিষয়ক সম্পাদক রানা এবং একই সংগঠনের উপজেলা শাখার সদস্য সামেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি শফিউল্লাহ সোনার বলেন, যুবসমাজ একটি দেশের শক্তি ও সম্ভাবনার প্রধান চালিকাশক্তি। মাদকাসক্তি ও প্রযুক্তির অপব্যবহার তরুণ প্রজন্মের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই যুবকদের সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, মাঠের খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়; এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি টুর্নামেন্টের আয়োজক, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক সামাজিক ও ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আয়োজকরা জানান, ‘মাদক নয়, খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ি সুন্দর আগামী’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে তরুণদের মাঠমুখী করতেই এমন আয়োজন। ভবিষ্যতেও সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে করে খেলোয়ারদের মাঝে অনেক আনন্দ অনুভূতি হয় বলে জানা যায়।

