মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক বছরে বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন খাতের শত শত কারখানা। ফলে হু হু করে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। ইতিমধ্যে বেকার হয়ে পড়েছে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে গত এক বছরে ৩৫৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তাতে বেকার হয়েছেন এক লাখ ১৯ হাজার ৮৪২ শ্রমিক।

কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার ছাড়াও কাঁচামাল আমদানিতে এলসি সমস্যা, শিল্পে অব্যাহত গ্যাসসংকট, দফায় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়া, অব্যাহতভাবে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচে অনেকে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলে শিল্পমালিকরা চরম সংকটের কারণেই বাধ্য হচ্ছেন কারখানা বন্ধ করতে।

কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিল্প পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে এক বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ২১৪টি কারখানা। তার মধ্যে স্থায়ীভাবে ১২২টি ও অস্থায়ীভাবে ৯২টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ হওয়ায় ওইসব কারখানার প্রায় ৩১ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনিক, রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও ব্যাংকের খেলাপি ঋণ নিয়ে কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। আর গাজীপুর জেলায় একে একে শিল্প-কারখানা বন্ধ হচ্ছে। তাতে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। কাজ না পেয়ে তারা যুক্ত হচ্ছেন নানা অপরাধে।

এক বছরে গাজীপুরে ৭২টি কলকারখানা বন্ধ করা হয়েছে। কারখানা বন্ধ হওয়ায় জেলায় বেকার হয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থাভাবে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয় রপ্তানিমুখী বেক্সিমকো গ্রুপের ১৩ পোশাক কারখানা। আর চাকরি হারানো শ্রমিকদের খুব কমই অন্য কারখানায় চাকরি পেয়েছেন।

সূত্র জানায়, গাজীপুরে গত জানুয়ারিতে ৪৩টি কারখানা বন্ধ হয়। বেক্সিমকোর ১৩টিসহ বাকি কারখানাগুলো গত ছয় মাসে বন্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বেকার হয়েছেন ৭৩ হাজার ১০৩ জন শ্রমিক। কারখানাগুলোর বেশির ভাগই কাজ না থাকা, কার্যাদেশ বাতিল এবং আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়েছে। তাছাড়া কারখানার মালিকানা পরিবর্তন, ব্যাংকঋণ রিশিডিউল না করা, কাজ না থাকা ইত্যাদি কারণে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। মূলত বেশির ভাগ কারখানা আর্থিক সংকটের কারণেই বন্ধ হচ্ছে।

তাছাড়া দেশের বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রামে গত এক বছরে ২১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। তাতে জাহাজ ভাঙাসহ বিভিন্ন কারখানার কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছে। ২১ কারখানাসহ ২০০৫ সাল থেকে তৈরি পোশাক ও শিপ ব্রেকিং (জাহাজ ভাঙা শিল্প) ওই দুটি প্রধান শিল্প খাতে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে ৪১৬ কারখানা।

বিজিএমইএর তথ্যনুসারে, ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে ৬৯৯টি নিবন্ধিত কারখানার মধ্যে ৬১০টি সচল ছিল, সেখানে এখন ৩৫০টি কারখানা চালু রয়েছে। বাকি ২৬০টি কারখানায় তালা ঝুলছে। তার মধ্যে গত বছর ১৪টি ও চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে ৭টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে।

তার বাইরে এক বছরে একাধিক জাহাজ ভাঙা কারখানা বন্ধ এবং কয়েকটি কারখানায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কমানো হয়েছে। ক্রয়াদেশ কমার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও ব্যাংকিং সংকটও ওইসব কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণ। সূত্র আরো জানায়, চট্টগ্রামে জাহাজ ভাঙা শিল্পে তৈরি পোশাক খাতের চেয়ে বেশি সংকট দেখা যাচ্ছে।

Share.
Exit mobile version