সোমবার | মার্চ ২ | ২০২৬

বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও উন্নয়নপর্ব অতিক্রম করছে এবং এই যাত্রায় চীন অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতা অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এটাই চীনের প্রত্যাশা। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার বাংলাদেশের জনগণের। বাইরের কোনো দেশের নয়।”

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ এখন সংস্কার ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্বে রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা আশা করি দেশটি তার প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত উন্নয়ন পথে এগিয়ে যাবে।”

তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বাইরের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করার কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত চীনের ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থনকেও আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, “এটি আমাদের বহু ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার ধারাবাহিকতা মাত্র। আমরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখে এই উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি জানান, সম্প্রতি কুনমিংয়ে চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক অগ্রগতি অর্জনে চীন দুই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “আমরা অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশকেও এই উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেছি, তবে তারা কেমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সে বিষয়ে আপাতত কিছু বলছি না।”

চীনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখন সুযোগ রয়েছে, তাই আমরা সব দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। এর আগে এমন যোগাযোগে কিছু বাধা ছিল—আপনারা তো জানেনই।”

বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দুর্যোগ প্রতিরোধে চীন সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত আছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, “চীন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনে অবদান রাখতে আগ্রহী। অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক ডিক্যাব সভাপতি শামিম আহমেদের মৃত্যু এবং উত্তরার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

Share.
Exit mobile version