২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে কারচুপিতে সহযোগিতার কারণে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা পুরস্কার হিসেবে বিপিএম ও পিপিএম পদক পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি ও জেরায় তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশ ও প্রশাসনের অংশগ্রহণ ছিল প্রত্যক্ষ, আর এর পরপরই পুরস্কারের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িতদের উৎসাহিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমীর হোসেনের জেরায় মামুন বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী নাকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাতে ব্যালট বক্সে ভোট রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসিল্যান্ড, এসপি ও ওসিরা।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় ও পরবর্তী সময়ে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদানের ক্ষেত্রে মূলত রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও নির্বাচনে কারচুপিতে সহযোগিতাকারী কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। মামুন নিজেও তিনটি বিপিএম ও পিপিএম পদক পান। তবে তার ভাষায়, “আমাকে পদকগুলো কেন দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”
সাবেক আইজিপি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আরও বেড়ে যায়। কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় বৈঠক করতেন, যা বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল ছিল। তিনি এসব বৈঠক থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিলেও তা কার্যকর হয়নি।
নিজের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সততা ও দক্ষতার কারণে তাকে আইজিপি করা হয় এবং পরবর্তীতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আড়াল করার স্বার্থে দু’দফায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। যদিও দ্বিতীয়বার তিনি নিজে রাজি ছিলেন না।
এই জবানবন্দি আসে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আসামি হিসেবে রয়েছেন।
