ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৪ দফা কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অগাস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ রোডম্যাপ প্রকাশ করেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, ভোটগ্রহণের অন্তত ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে সুনির্দিষ্ট ভোটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সচিব আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে নির্দেশনা এসেছে, রমজানের আগেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আগামী বছরের ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রমজান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই হিসেবে ফেব্রুয়ারির আগে ভোট সম্পন্ন করা হবে।
ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেড় মাসব্যাপী অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু হবে। এতে অংশ নেবেন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজ, নারী প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও জুলাই আন্দোলনে আহত নাগরিকরা।
ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। তফসিল ঘোষণার কমপক্ষে তিন দিন আগে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে আসনভিত্তিক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা হবে। নভেম্বরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে, যেখানে শুধুমাত্র নতুন তথ্য সংযোজন করা হবে।
নির্বাচন পরিচালনায় ব্যবহৃত আইনি কাঠামো ও সংশোধনী প্রক্রিয়াগুলোও চলমান রয়েছে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন, ভোটার তালিকা আইন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নীতিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালাসহ একাধিক আইন ও নীতিমালা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।
ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ হাজার ভোটারের জন্য একটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে প্রতি ৬০০ পুরুষ ভোটারের জন্য একটি কক্ষ এবং প্রতি ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি কক্ষ থাকবে। নির্বাচন–সংক্রান্ত ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা ও পোস্টার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুদ্রিত হবে। আর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু হবে ২৯ আগস্ট, যা ভোটগ্রহণের ৪৫ দিন আগে শেষ করা হবে।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গেজেট প্রকাশ করা হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। একই তারিখের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজও শেষ হবে। চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ব্যবহার করে ৩১ আগস্টের মধ্যে জিআইএস ম্যাপ প্রকাশ করা হবে। দেশি পর্যবেক্ষক নিবন্ধন ২২ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা হবে এবং নিবন্ধন সনদ প্রদান হবে ১৫ নভেম্বর। একই তারিখে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক অনুমতির কার্যক্রমও সম্পন্ন হবে।
এ ছাড়া নির্বাচনি তথ্য প্রচারের জন্য ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার-ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই ও বিশেষ শাখার সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সভা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় সভা তফসিল ঘোষণার ১৫ দিন আগে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, ভোটকেন্দ্র থেকে ফলাফল প্রেরণ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ৩১ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।


