মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, যেকোনো সময় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আজকের (শনিবার) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে তিস্তার পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করার ঝুঁকি রয়েছে। এতে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে উত্তরের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নতুন বন্যার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে উঠেছিল। তখন লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার ৩৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়, পানিবন্দি হয় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছার চরাঞ্চলও ডুবে যায়।

সেই সময়ে আমন ধান ও সবজির খেত তলিয়ে যায়, মাছচাষিদের পুকুর ভেসে যায়। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গঙ্গাচড়া সেতুর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার অংশ ধসে পড়ে। এতে সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট মহাসড়ক হুমকির মুখে পড়ে।

এখনও নদীর তীরবর্তী এলাকায় আমন ধানের ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, আবারও বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরে তা আবার বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে থাকবে এবং পদ্মার পানি তিন দিন স্থিতিশীল থাকার পর আরও দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ৬টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫২ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। একইভাবে কাউনিয়া পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Share.
Exit mobile version