মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে উপজীব্য করে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে ৯ দিনব্যাপী ‘জুলাই পুনর্জাগরণ নাট্য উৎসব’। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার (৩১শে জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ নাট্য উৎসব চলবে আগামী ৮ই আগস্ট পর্যন্ত। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার এবং এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় বিভিন্ন নাট্যদলের নাটক প্রদর্শিত হবে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজন শুরু হয়। প্রথম দিনের নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ হয় টিম কালারস-এর প্রযোজনা ‘রি-রিভোল্ট’। এটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নায়লা আজাদ।

আসছে আরও বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা

উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ, শুক্রবার (১লা আগস্ট) জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে সন্ধ্যা ৭টায় দেখা যাবে তীরন্দাজ রেপার্টরি-এর নাটক ‘শুভঙ্কর হাত ধরতে চেয়েছিল’। এটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন দীপক সুমন। একই দিন এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে স্পন্দন থিয়েটার সার্কেল-এর নাটক ‘দেয়াল জানে সব’, যা রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন শাকিল আহমেদ সনেট।

বাকি দিনগুলোতেও মঞ্চস্থ হবে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক। এর মধ্যে রয়েছে: ইরা আহমেদের নির্দেশনায় এথেরা-এর ‘দ্রোহের রক্ত কদম’, লাহুল মিয়ার নির্দেশনায় ফোর্থ ওয়াল থিয়েটার-এর ‘৪০৪: নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি’, সাইদুর রহমান লিপনের নির্দেশনায় রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ‘এনিমেল ফার্ম’, খন্দকার রাকিবুল হকের নির্দেশনায় অন্তর্যাত্রা-এর ‘আর কত দিন’, ইলিয়াস নবী ফয়সালের নির্দেশনায় ভৈরবী-এর ‘অগ্নি শ্রাবণ’, ধীমান চন্দ্র বর্মণের নির্দেশনায় থিয়েটার ওয়েভ-এর ‘মুখোমুখি’ এবং আজাদ আবুল কালামের নির্দেশনায় প্রাচ্যনাট-এর ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’।

জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের নিয়ে সমাপনী আয়োজন

উৎসবের সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হবে কাজী নওশাবা আহমেদের নির্দেশনায় ‘আগুনি’। এটি পরিবেশন করবে টুগেদার উই ক্যান। এই নাটকে জুলাই আন্দোলনের অর্ধশতাধিক যোদ্ধা অংশ নিয়েছেন, যা এই উৎসবের মূল ভাবনাকে আরও অর্থবহ করে তুলবে।

‘জুলাই পুনর্জাগরণ নাট্য উৎসব’-এর প্রতিটি প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যা সর্বস্তরের মানুষকে এই ঐতিহাসিক সময়ের প্রতিচ্ছবি নাটকের মাধ্যমে দেখার সুযোগ করে দেবে। এই আয়োজন ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাদের চেতনার পুনরুত্থান ঘটাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


Share.
Exit mobile version