প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান জানান। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভাষণে তিনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘ সনদের ৮০ বছর পূর্তিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও সব সদস্য রাষ্ট্রকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুবসমাজ ছিল প্রধান চালিকা শক্তি। এরই ধারাবাহিকতায় অবাধ নির্বাচন, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দিয়েছে এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানকে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে তিনি গাজায় চলমান সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ইউনূস নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পদক্ষেপ, প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার, আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার ও শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি তার স্বপ্নের ‘তিন শূন্য বিশ্বের’ কথা উল্লেখ করেন—শূন্য কার্বন, শূন্য দারিদ্র্য এবং শূন্য বেকারত্ব।
ভাষণে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানান। তার মতে, রাজনৈতিক অচলাবস্থার পরও সার্ক কার্যকর কাঠামো ধরে রেখেছে এবং এটি কোটি মানুষের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম। পাশাপাশি তিনি আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং আসিয়ানে যোগদানের আগ্রহ তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ইউনূস বৈশ্বিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল গড়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার অধীনে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কনভেনশনে যোগ দিয়েছে, যা নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্র বিস্তাররোধ ছাড়া শান্তি সম্ভব নয়, আর সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
