গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও ছুরিকাঘাতে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের আরেক শিবিরকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার, ২১ জুন বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। আহত সালাউদ্দিনকে উদ্ধারের পর প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল গত ১৬ জুন। ওই দিন স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুম কামাল সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ তাকে জানান, মাসুম জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র লাগবে। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ জানান, ওই ঘটনার জের ধরে রবিবার বিকালে সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার সঙ্গে মাসুম কামালের সহযোগী বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা ও শিবিরকর্মী মোফাচ্ছের প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সেখানে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন উপস্থিত হন। তারাও প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে মুকুলের নেতৃত্বে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ১০-১২ জন সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন মুকুল ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বার। হামলাকারীরা সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় সাইফুল্লাহ এগিয়ে গেলে তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম জড়িত। তাদের নেতৃত্বেই হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।”
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আশরাফ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের আটকে অভিযান চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। প্রধান শিক্ষক ১৬ জুন লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন কি না, কাগজপত্র যাচাই করে জানানো হবে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্বের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
তবে হত্যাকাণ্ডে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী।
Previous Articleসময়ের চাকা ঘুরছে -বাস্তবতার মুখোমুখি সবাই!
