বুধবার | মার্চ ৪ | ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গভীর সমুদ্র ও প্রাণিসম্পদ খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। এই অবহেলার কারণে দেশ অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়—যা একসঙ্গে খামার ও সমুদ্র উভয়ের সম্পদ নিয়ে কাজ করে। কিন্তু এখনও আমরা সাগরের পুরো জগতে প্রবেশ করিনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের জানতে হবে—আমাদের কী ধরনের মৎস্য সম্পদ আছে, কী হারাচ্ছি এবং কেন পিছিয়ে আছি। সঠিক পরিকল্পনা ও গবেষণার মাধ্যমে এই খাত আমাদের অর্থনীতির জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।”

বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রের সম্ভাবনাময় অঞ্চল চিহ্নিত করতে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য জরিপ পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশ জাপান কিংবা থাইল্যান্ডের মতো দেশ থেকে কারিগরি সহায়তা নিতে পারে।

“জাপান ইতিমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা দেখব যৌথ উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব কিনা। তবে তার আগে আমাদের নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকতে হবে।”

তিনি বলেন, “এটি শুধু আরও মাছ ধরার ব্যাপার নয়, এটি একটি শিল্প গড়ে তোলার বিষয়।”

গবেষণা যেন শুধু গবেষণার জন্য না হয়, বরং তা নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখে—এমন মডেলের ওপর জোর দেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে এই উদ্যোগে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার নির্দেশনা দেন।

এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও আইডিয়া আহ্বানের পরামর্শ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন।

গবাদিপশু খাতে খাদ্য সংকট, রোগব্যাধি ও উচ্চমূল্যের টিকার বিষয়টি তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এই সমস্যাগুলো খামারিদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের অবশ্যই দেশে স্থানীয়ভাবে পশুখাদ্য ও টিকা উৎপাদনের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। খরচ কমানো ও আত্মনির্ভরতার জন্য এটাই একমাত্র পথ।”

বৈশ্বিক হালাল মাংস বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার মতো দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আমাদের অবশ্যই সম্ভাবনার পরিমাণ যাচাই করতে হবে।”

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গবাদিপশুর চামড়ার বাজার নিয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, “একই সংকট বারবার হতে দেওয়া যাবে না। গরুর চামড়ার জন্য একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ বাজার নিশ্চিত করতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।”

চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের সঠিকভাবে দেখভাল না হওয়া এবং খাবার চুরি হওয়ার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি অমানবিক। জাতীয় চিড়িয়াখানার ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।”

দেশের বিভিন্ন ভেটেরিনারি ক্লিনিকগুলোর দুর্বল অবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “অনেক ক্লিনিক পুরোনো ও কার্যকারিতা হারিয়েছে। এগুলোকে কৃষক ও খামারিদের জন্য কার্যকর সহায়তা কেন্দ্রে রূপান্তর করতে হবে।”

বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Exit mobile version