মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন।

জবানবন্দিতে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি, দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান। তার ভাষায়, “আমার এই সত্য ও পূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে যদি সত্য উদ্ঘাটিত হয়, আল্লাহ যদি আমাকে আরও জীবন দেন তবে বাকিটা সময় অন্তত কিছুটা অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাব।”

সাবেক আইজিপি বলেন, তিনি সাড়ে ৩৬ বছর পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং কখনো কোনো অভিযোগের সম্মুখীন হননি। তবে চাকরির শেষ সময়ে গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ড তার দায়িত্বকালীন সময়ে ঘটেছে। এ দায় তিনি স্বীকার করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। মামলার প্রক্রিয়ায় একপর্যায়ে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানান মামুন, যা আদালত মঞ্জুর করে। এ মামলায় সোমবার ছিল সাক্ষ্যগ্রহণের ১১তম দিন, আর এটি ছিল মামুনের ৩৬তম সাক্ষ্য।

প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম। অপরদিকে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন দায়িত্ব পালন করেন। মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

এই মামলার বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন। একটি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে, আরেকটি ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনকালে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনের একটি অংশ গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচারকাজ চলছে।

Share.
Exit mobile version