উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। রেলওয়ের ইঞ্জিন ঘাটতির কারণে চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রংপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো প্রায় খালি হয়ে পড়েছে। এতে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডিপো কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ অঞ্চলের মাসিক চাহিদা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার হলেও গত আগস্টে সরবরাহ হয়েছে মাত্র ৩০ লাখ লিটার। পাঁচ মাস ধরে এমন ঘাটতি অব্যাহত থাকায় জ্বালানি সংকট এখন মারাত্মক আকার নিয়েছে।
রংপুর জেলা পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আজিজুর ইসলাম মিন্টু বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।”
সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীরা দূরবর্তী কেন্দ্র থেকে জ্বালানি আনতে বাধ্য হচ্ছেন। রংপুরের চারিতলা মোড়ের মিজান ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজানুর রহমান জানান, “রেলপথে জ্বালানি না আসায় আমরা চট্টগ্রাম ও পার্বতীপুর থেকে উচ্চ খরচে আনতে বাধ্য হচ্ছি। স্থানীয় ডিপো থেকে পেলে ব্যয় অনেক কম হতো।” আরেক ডিলার মনজুর আজাদ বলেন, “পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি থেকে জ্বালানি আনতে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ হয় এবং দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি কৃষি ও পরিবহনও বিপর্যস্ত।”
সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক। রংপুর ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলাউল মিয়া লালু বলেন, “৬০০-র বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।”
ডিপো কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। মূল সমস্যা হলো ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট। মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোর কর্মকর্তা জাকির হোসেন পাঠওয়ারী বলেন, “মাসিক চাহিদা ২৫ লাখ লিটার হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫ লাখ লিটার।” পদ্মা ডিপোর কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, “আগে দুইটি ইঞ্জিন দিয়ে মাসে ৮–১০ ট্রিপ করা যেত। এখন একটি ইঞ্জিনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪–৫ ট্রিপে। সম্প্রতি সেই ইঞ্জিনও সরিয়ে নেওয়ায় ডিপো কার্যত খালি।”
রংপুরের জেলা প্রশাসক রাবিউল ফয়সাল বলেন, “রেলওয়ের ইঞ্জিন ঘাটতির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
