আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি এলাকার সীমানার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত গেজেটের মাধ্যমে দেশের ৩০০ আসনের সীমানা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় ৩৭টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে কমপক্ষে ৪৬টি আসনের ওপর।
ঢাকার ছয়টি আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ঢাকা-২, ৪, ৫, ৭, ১০ ও ১৪ আসনের সীমানা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-২ আসনে কেরাণীগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়ন এবং সাভারের কিছু এলাকা যুক্ত হয়েছে। ঢাকা-৪, ৫ ও ৭ আসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা-১০ আসনে দক্ষিণ সিটির একাধিক ওয়ার্ড এবং ঢাকা-১৪ আসনে উত্তর সিটির কয়েকটি ওয়ার্ড ও সাভারের দুটি ইউনিয়ন যুক্ত করা হয়েছে।
বাগেরহাটে আসন সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিনটিতে আনা হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুরে আসন সংখ্যা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ছয়টিতে উন্নীত করা হয়েছে। গাজীপুর-৬ নামে নতুন আসনে সিটি কর্পোরেশনের ৩২ থেকে ৩৯ এবং ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলায় আসন সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
দোহার ও নবাবগঞ্জ আসন পুনর্দাবি কমিটির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবীর জানান, তারা দশ হাজারের বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আসন পুনরুদ্ধারের আবেদন জমা দিলেও তা গৃহীত হয়নি। আপত্তি পর্যায়ে বিভিন্ন দাবি ও সুপারিশের মধ্যে কিছু আংশিকভাবে প্রতিফলিত হলেও অনেক দাবিই মানা হয়নি।
নির্বাচনি সীমানা পুনঃনির্ধারণে বিশেষায়িত কমিটি কাজ করেছে গত কয়েক মাস ধরে। গত ৩০ জুলাই খসড়া প্রকাশের পর ২৭ আগস্ট পর্যন্ত আপত্তি ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। চারদিনের শুনানিতে মোট ১ হাজার ৮৯৩টি দাবি ও প্রস্তাব পেশ করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ আপত্তি এবং ৭০০-এর বেশি পরামর্শ কমিশন বিবেচনায় নেয়।
ইসির চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী এখন দেশের সব সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
