ওয়াসিম আকরাম, নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা সদরের একমাত্র শিশু বিনোদনকেন্দ্র ‘কেন্দ্রীয় শিশু পার্ক’ এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে পার্কের ভেতরে জমেছে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা। এরই মধ্যে প্রধান ফটকের সামনের জায়গায় ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রেখে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ফলে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জায়গাটি দিন দিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পার্কটির ভেতরের পরিবেশ বেশ নোংরা। বিভিন্ন স্থানে শুকনো পাতা, ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। শিশুদের বসার স্থান ও হাঁটার পথও দীর্ঘদিন যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। পার্কে থাকা বিভিন্ন রাইড ও স্থাপনার অবস্থাও ভালো নয়।
সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে পার্কের প্রধান ফটকের সামনের চিত্র। সেখানে ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এতে একদিকে পার্কের প্রবেশপথের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বাতাসে বালু ও ধুলা উড়ে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিয়ামতপুর উপজেলা সদরে শিশুদের খেলাধুলা ও অবসর কাটানোর জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান নেই। এ কারণে কেন্দ্রীয় শিশু পার্কটি স্থানীয় শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিনোদনকেন্দ্র ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে সেটিও এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
অভিভাবকদের কয়েকজন জানান, শিশুদের নিয়ে পার্কে এসে সময় কাটানোর মতো পরিবেশ এখন আর নেই। পার্কটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাইডগুলো সংস্কার এবং অবৈধভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে দেওয়া হলে শিশুরা আবার সেখানে খেলাধুলার সুযোগ পাবে।
স্থানীয় সাংবাদিক রুহুল আমিন শেখ বলেন, ‘উপজেলা সদরের পাশে থাকা এই পার্কটি যথাযথভাবে সংস্কার করে উন্মুক্ত করা গেলে শিশুদের খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে পার্কটির আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’
সচেতন নাগরিকদের দাবি, পার্কের সামনের জায়গায় রাখা নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পুরো পার্ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রাইড ও অবকাঠামো সংস্কার করে শিশুদের জন্য নিরাপদ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পার্কের সামনে অবৈধভাবে ইট, বালুসহ নির্মাণসামগ্রী রেখে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পার্কটি দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপজেলা পরিষদ অথবা জেলা পরিষদের বরাদ্দ নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে পার্কটি আবারও শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।’
প্রশাসনের এই আশ্বাসে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পার্কটির দখল ও ময়লা-আবর্জনা দূর করে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে এটি আবারও চালু করা হবে।

