মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া ও নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে যখন দেশের তরুণসমাজের একটি অংশ, তখন সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের ইতিবাচক ধারায়সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আফিনজা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী কাজী মনিরুল হক।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল পর্দায় খেলা দেখারআয়োজন করে তিনি তরুণদের একত্রিত হওয়ার একটি নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরিকরেছেন। একই সঙ্গে মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করে স্থানীয়দেরপ্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনাকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপ দিতে আলফাডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে বড়পর্দা স্থাপন করেছেন কাজী মনিরুল হক। এসব পর্দায় প্রতিদিন খেলা উপভোগ করতে জড়োহচ্ছেন শত শত তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমী। স্থানীয়দের মতে, এই আয়োজন শুধু খেলা দেখারমধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তরুণদের একসঙ্গে সুস্থ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবেশে সময়কাটানোর সুযোগ তৈরি করেছে। এতে মাদক, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ডথেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এ উদ্যোগ।
তবে কাজী মনিরুল হকের কার্যক্রম শুধু খেলাধুলাকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতিউপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের ভেন্নাতলা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিরপরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। ক্ষতিগ্রস্তপরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের দুঃসময়ে সাহস ও সহযোগিতার বার্তাও দেন।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই অসহায়, দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিকসহযোগিতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন তিনি।সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিকতার কারণে স্থানীয়দের কাছেতিনি একজন মানবিক ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
বুড়াইচ ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের ক্রীড়া সংগঠক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “কাজী মনিরুলহক অনেক আগে থেকেই খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ ধারার বিনোদনকে উৎসাহিত করেআসছেন। বিভিন্ন সময়ে এলাকায় বড় বড় ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ নানা ক্রীড়া ওসাংস্কৃতিক আয়োজনে তিনি আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। আমরা আশা করি, তিনিভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখবেন এবং যুবসমাজকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতোসামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে কাজ করে যাবেন।“
স্থানীয়দের ভাষ্য, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই কাজী মনিরুল হক ধারাবাহিকভাবেখেলাধুলা, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।তাঁদের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগই বাড়াবে না, বরংসামাজিক সম্প্রীতি ও ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই তাঁরএসব উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশাই আলফাডাঙ্গাবাসীর।

