মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অভিবাসনবিরোধী সবচেয়ে বড় সমাবেশগুলোর একটিতে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার আয়োজিত “ইউনাইট দ্য কিংডম” মিছিলে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে জানিয়েছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন পুলিশ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

মিছিলটি আয়োজন করেন কট্টরপন্থী অভিবাসনবিরোধী কর্মী টমি রবিনসন। পুলিশের ভাষ্যমতে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নিতে এসেছিলেন অনেকেই, তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অংশগ্রহণকারী শুরু থেকেই সহিংসতায় জড়ানোর চেষ্টা করেন। তারা পুলিশের ওপর শারীরিক ও মৌখিক আক্রমণ চালান এবং নিরাপত্তা কর্ডন ভাঙতে চেষ্টা করেন। সহকারী পুলিশ কমিশনার ম্যাট টুইস্ট বলেন, “এটি ছিল অগ্রহণযোগ্য সহিংসতা। আমরা ইতিমধ্যে অন্তত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছি, তবে তদন্ত চলমান থাকায় আরও অনেকে গ্রেপ্তার হবেন।”

অভিবাসনবিরোধী স্লোগান, যুক্তরাজ্যের পতাকা এবং সেন্ট জর্জ ক্রস নিয়ে মিছিলে অংশ নেন হাজারো মানুষ। অনেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা বহন করেন এবং ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ টুপি পরিধান করেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনামূলক ব্যানার ও “সেন্ড দেম হোম” লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।

রবিনসন, যার প্রকৃত নাম স্টিফেন ইয়্যাক্সলি-লেনন, সমাবেশে বলেন, “আজকের দিনটি ব্রিটিশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার বিপ্লবের সূচনা।” তিনি অভিযোগ করেন, অভিবাসীরা আদালতে স্থানীয় নাগরিকদের চেয়ে বেশি অধিকার পাচ্ছে। তার এই বক্তব্যে জনতা উল্লাস প্রকাশ করে।

সমাবেশে ভিডিও বার্তা পাঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তিনি বলেন, “অসংযত অভিবাসন ব্রিটেনকে ধ্বংস করছে। সরকার পরিবর্তনের সময় এসেছে।” এছাড়া ফরাসি রাজনীতিক এরিক জেমুর ও জার্মানির ডানপন্থী ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ দলের নেতা পেত্র বিস্ট্রন বক্তব্য রাখেন। তারা ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ তত্ত্ব প্রচার করেন, যা দাবি করে ইউরোপে শ্বেতাঙ্গদের জায়গা নিচ্ছেন অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীরা।

এদিকে পাল্টা সমাবেশে হোয়াইট হলে জড়ো হন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ সংগঠনের এই সমাবেশে “শরণার্থীদের স্বাগত” ও “ফ্যাসিবাদ ধ্বংস করো” লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। লেবার এমপি জাহরা সুলতানা ও ডায়ান অ্যাবট অংশ নিয়ে বলেন, “অভিবাসীদের হুমকি হিসেবে তুলে ধরা একটি বিপজ্জনক মিথ্যা প্রচার।”

লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষকে আলাদা রাখতে ১ হাজার ৬০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষ হয়। অ্যাবট ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিভেদ সৃষ্টিকারী রাজনীতি ঠেকাতে সংহতি জরুরি।

এই বিক্ষোভ এমন এক সময় হচ্ছে যখন অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ নির্বাচন হলে দলটি সর্বাধিক ভোট পেতে পারে। তবে দলটি রবিনসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক অস্বীকার করেছে, যিনি পূর্বে ইংলিশ ডিফেন্স লিগ (ইডিএল) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং নানা অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি আধুনিক ব্রিটেনের অন্যতম বৃহৎ ডানপন্থী সমাবেশ। অ্যান্টি-রেসিজম সংগঠন হোপ নট হেটের পরিচালক জো মুলহল বলেন, “সম্ভবত এটাই এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ডানপন্থী বিক্ষোভ।”

Share.
Exit mobile version