ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছেন, সব প্রতিকূল সময়েও ভারত ও রাশিয়া একসঙ্গে আছে এবং থাকবে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠকে এই বার্তা দেন মোদী। বৈঠকটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভারত রাশিয়া সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উপস্থাপন করেছে।
পুতিন এ সময় মোদীকে তাঁর “প্রিয় বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করেন এবং নিজস্ব সাঁজোয়া লিমুজিন অরাস-এ তাঁকে যাত্রাসঙ্গী করেন। পরে মোদী এক্স-এ সেই ছবিও শেয়ার করে লেখেন, “সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও ভারত ও রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়েছে। আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা কেবল দুই দেশের মানুষের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় দুই ক্রেতা হলো চীন ও ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তবে দুই দেশই তাদের কেনাকাটা বন্ধের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
এসসিও সম্মেলনের ভেন্যুতে মোদী ও পুতিনকে হাত ধরাধরি করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিকে এগোতে দেখা যায়। তিন নেতা অনুবাদকদের উপস্থিতিতে হাসিমুখে কথোপকথন করেন, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হয়।
বৈঠকে পুতিন বলেন, “রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বহু দশক ধরে বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক বিকাশের ভিত্তি হবে।”
মোদীও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সাম্প্রতিক উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন এবং আশা প্রকাশ করেন সংঘাতটি দ্রুত শেষ হবে। এর আগে শনিবার তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোন আলাপে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পরে এক্স-এ মোদী আরও লিখেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে অসাধারণ বৈঠক হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, সার, মহাকাশ, নিরাপত্তা ও সংস্কৃতিসহ সব খাতেই সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, “আমাদের বিশেষ ও বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে রয়ে গেছে। এভাবেই ভবিষ্যতেও ভারত রাশিয়া সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও দৃঢ় হবে।”
