মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়া বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ বিমানের চার ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বোয়িং কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝআকাশে কেবিনের একটি প্যানেল ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনায় তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে দাবি করেছেন।

ওই চারজন আলাদা আলাদা মামলার মাধ্যমে বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় তারা অতীত ও ভবিষ্যতের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি, শারীরিক ও মানসিক আঘাত, আবেগজনিত ট্রমা ও চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের আইনজীবী ট্রেসি ব্র্যামাইয়ার বলেন, “চারজনই প্রশিক্ষণ অনুযায়ী সাহসিকতার সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, যদিও নিজেরাই মৃত্যুভয়ে ছিলেন। এটি তাদের জীবনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং তারা পূর্ণ ক্ষতিপূরণের যোগ্য।”

বোয়িং এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আলাস্কা এয়ারলাইন্সও রয়টার্সের অনুরোধে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের বিমানের উৎপাদন, বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বহীনতা ও অবহেলা করেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, “বোয়িং জানত বা জানার কথা ছিল, তাদের ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের উৎপাদনে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা ছিল।”

উল্লেখ্য, ওই ভয়াবহ ঘটনার পর মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে এবং জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের একটি ডিফার্ড প্রসিকিউশন এগ্রিমেন্ট (DPA) এর শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

গত মাসে মার্কিন জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (NTSB) জানায়, বোয়িং সঠিক প্রশিক্ষণ, নির্দেশনা ও তদারকি না করায় এই বিপজ্জনক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বোর্ড অভিযোগ করে, বিমানের প্যানেলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বোল্ট না লাগানোর ফলে ওই সমস্যা হয় এবং বোয়িংয়ের নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও FAA-এর (ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) তদারকি ব্যর্থতাও সমালোচিত হয়।

এই মামলা বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে চলমান চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Share.
Exit mobile version