সোমবার | মার্চ ২ | ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপুল মুনাফা করেছে। মোট মুনাফার পরিমাণ হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যার নিট বা প্রকৃত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।

আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে গত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী অনুমোদন করা হয়। বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে, সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনুসর। সভায় পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মূল বেতনের ছয় গুণ প্রণোদনা বোনাসও অনুমোদন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, অর্থনীতিতে মন্দাভাব থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চাঙা ছিল। রাজস্ব আয় কম হওয়ায় সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আগের তুলনায় বেশি ঋণ নিয়েছে। ফলে সুদ আয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে।

এছাড়া, বিদেশে রাখা রিজার্ভের বিনিয়োগ থেকেও ভালো মুনাফা এসেছে। ইতিমধ্যে মুনাফার ৮ হাজার কোটি টাকা সরকারের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকাও হিসাব বিবরণীতে নিরীক্ষক ও গভর্নরের স্বাক্ষরের পর সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনীতি চাঙা থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা কম হয়। আর অর্থনৈতিক মন্দা থাকলে বেশি মুনাফা হয়। অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ছিল ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এক বছরের মধ্যে এটি বেড়ে ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “স্থানীয় মুদ্রা থেকে রিজার্ভের বিনিয়োগের চেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে। সরকারের হিসাবে মুনাফার একটি অংশ ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে বাকি অর্থও জমা দেওয়া হবে।”

Share.
Exit mobile version