মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক ভিডিও বার্তায় এই স্বীকৃতির কথা জানিয়েছেন। একই দিনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রদান করেছেন।

স্টারমার তার বার্তায় বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে শান্তি ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধান রক্ষা করার প্রয়াস অব্যাহত রাখতে আমি ঘোষণা করছি—ফিলিস্তিনকে এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এর অর্থ হলো, একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ইসরায়েল এবং পাশাপাশি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র থাকবে।”

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সামাজিক মাধ্যম এক্সে (Twitter) পোস্ট করে স্বীকৃতির বিষয়টি জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, তার দেশ ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করবে।

গত জুলাইয়ে স্টারমার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রাথমিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি না হলে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে।

তবে গাজায় বর্তমানে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়নি। গত সপ্তাহে ইসরায়েল গাজা সিটিতে স্থল অভিযান শুরু করে, উপত্যকার কেন্দ্রভাগে হামলা চালায়। এতে বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজারো বাসিন্দা গাজা সিটি ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় যেতে বাধ্য হয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদানের পদক্ষেপ দেশটির পররাষ্ট্র নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে। ইসরায়েলি সরকার, জিম্মিদের পরিবার এবং কিছু ডানপন্থী সংগঠন স্টারমারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন, “যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করার মতো।” তবে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা যুক্তি দেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধান রক্ষার জন্য এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব।

Share.
Exit mobile version