চীনের বিশ্বখ্যাত শাওলিন মন্দিরের প্রধান ভিক্ষু শি ইয়ংশিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে একাধিক সরকারি সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিবাহবহির্ভূত সন্তানের পিতৃত্ব। এসব তথ্য রোববার মন্দির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
১৫০০ বছরের পুরনো এই বৌদ্ধ মন্দিরটি হেনান প্রদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত এবং প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি শিষ্য এখানে আসেন।
শি ইয়ংশিন ১৯৯৯ সাল থেকে শাওলিন মন্দিরের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসন ভঙ্গের দায়ে তাঁকে সম্প্রতি সন্ন্যাস গ্রহণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি (ordination certificate) বাতিল করেছে চীনের বৌদ্ধ সংস্থা। সোমবার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “শি ইয়ংশিনের কার্যকলাপ বৌদ্ধ সমাজের মর্যাদা ও সন্ন্যাসীদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।”
শি ইয়ংশিন ‘সিইও সন্ন্যাসী’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন শাওলিন মন্দিরকে বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডে রূপান্তর করার কারণে। তাঁর নেতৃত্বে মন্দিরের শাখা স্কুল খোলা হয় বিদেশে, গঠিত হয় ভ্রমণকারী কুংফু দলের, যারা শাওলিনের বিখ্যাত মার্শাল আর্ট প্রদর্শন করে থাকেন।
তবে এই উত্থান যতটা বর্ণাঢ্য, বর্তমান পরিস্থিতি ততটাই প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল—নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, মন্দিরের অর্থ অপচয়, বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ (যেমন সোনার সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক এবং ভল্কসওয়াগেন SUV)। যদিও সে সময় তদন্তে তিনি অভিযোগমুক্ত হয়েছিলেন।
এবারের অভিযোগ সামনে আসার পর চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে এটি সোমবার সকালে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়। শি ইয়ংশিনের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট, যেটিতে প্রতিদিন বৌদ্ধ ধর্মীয় বাণী পোস্ট করা হতো, তা ২৪ জুলাইয়ের পর থেকে আর আপডেট হয়নি।
২০১৫ সালে বিবিসি চাইনিজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শি ইয়ংশিন বলেছিলেন, “যদি সত্যিই কোনো সমস্যা থাকত, অনেক আগেই তা প্রকাশ পেত।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালেই শাওলিন মন্দির একটি বিশাল ৩০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প হাতে নেয়, যার মধ্যে একটি হোটেল, কুংফু স্কুল এবং গলফ কোর্স নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তখনও তা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
বিশ্ব সংস্কৃতিতে “শাওলিন” নামটি একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে—১৯৮২ সালের জেট লি অভিনীত চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে ওয়ু-টাং ক্ল্যানের গানে, এমনকি “মর্টাল কমব্যাট” ভিডিও গেমেও এই নামের প্রভাব স্পষ্ট।
তবে এখন, শাওলিন মন্দিরের এই আলোচিত নেতাকে কেন্দ্র করে ধর্ম, দুর্নীতি ও আধুনিক বাণিজ্যিকীকরণের সংযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর কোনো ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।


