দেশের চামড়া শিল্পে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অনিয়মকে ‘হারানো অর্থনৈতিক সম্ভাবনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই শিল্পের সম্ভাবনাকে যথাযথ মূল্যায়ন না করায় জাতীয় অর্থনীতি লাভবান হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দেশের চামড়া শিল্পের ব্যাপারে আমরা অপরাধ করেছি, এটার সঠিক মূল্যায়ন করিনি। এই শিল্প দিয়ে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি।”
তিনি এই খাতের সংকট নিরসনে একটি পৃথক বৈঠকের আয়োজনের নির্দেশ দেন এবং বলেন, “আমাদের নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের অর্থনীতির স্বার্থে এই কাজগুলো করে যেতে হবে। যেসব নীতিমালা ও আইন অকার্যকর, সেগুলো সংস্কার করে এগিয়ে যেতে হবে।”
সভায় বিশেষভাবে আলোচিত হয় সাভারের টানারি ভিলেজে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) পূর্ণমাত্রায় চালুর বিষয়টি। এছাড়া মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এপিআই পার্কের বাস্তবায়ন ও ২০২২ সালের শিল্পনীতি হালনাগাদে গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়েও আলোচনা হয়।
এলডিসি থেকে উত্তরণকে সামনে রেখে আগামী দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই উত্তরণ শুধু আন্তর্জাতিক তালিকায় নাম ওঠানোর বিষয় নয়, এটি আমাদের অর্থনীতির মৌলিক কাঠামো শক্তিশালী করার একটি সুযোগ।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
বক্তারা চামড়া শিল্পকে টেকসইভাবে গড়ে তুলতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, নীতিমালার হালনাগাদ এবং রপ্তানিমুখী সম্ভাবনার সদ্ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ চামড়া উৎপাদনকারী দেশগুলোর অন্যতম হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পরিকল্পনার অভাবে এই খাত এখনও বিপর্যস্ত। প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যে চামড়া শিল্পের পুনর্জাগরণে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।


