মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

গাজায় চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে মানবিক সহায়তাকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার বন্ধে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়ে ১০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা একটি যৌথ চিঠি দিয়েছে।  নতুন বিধিনিষেধে সহায়তা পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও চিকিৎসা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

অক্সফাম ও মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ)–সহ মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন কড়া শর্ত ছাড়া ত্রাণ পাঠানোর অনুমতি দিচ্ছে না। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে— ইসরায়েল রাষ্ট্রের বৈধতা বা গণতান্ত্রিক চরিত্র অস্বীকার করা যাবে না, ফিলিস্তিনি কর্মীদের সম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে হবে এ্বং ইসরায়েলকে ‘অবৈধ’ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। এসব শর্ত না মানলে সংস্থার নিবন্ধন বাতিল বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ হতে পারে।

ইসরায়েলি সরকার দাবি করছে, নতুন নিয়মগুলো সহায়তা কার্যক্রমকে তাদের ‘জাতীয় স্বার্থের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। ডায়াসপোরা মন্ত্রী আমিচাই চিকলি বলেন, “দুঃখজনকভাবে, অনেক সংস্থা মানবিক সহায়তার আড়ালে শত্রুভাবাপন্ন বা সহিংস কর্মকাণ্ড চালায়।” তার ভাষ্য, যেসব সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড বা বয়কট আন্দোলনের সঙ্গে কোনো যোগ নেই, তারা অনুমতি পাবে।

সহায়তা আটকে যাওয়ার চিত্র

যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, ২ মার্চ থেকে বড় আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো একটিও জীবনরক্ষাকারী পণ্যের ট্রাক গাজায় পাঠাতে পারেনি। জুলাই মাসেই ৬০টির বেশি ত্রাণ পাঠানোর আবেদন ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে।

অক্সফামের নীতি-প্রধান বুশরা খালিদি জানান, এখন পর্যন্ত ২৫ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের সহায়তা আটকে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান নিয়ার ইস্ট রিফিউজি এইড (আনেরা)–এর প্রধান নির্বাহী শন ক্যারল বলেন, “আমাদের ৭০ লাখ ডলারের ত্রাণ—৭৪৪ টন চালসহ—আশদোদের বন্দরেই আটকে আছে, যা দিয়ে ৬০ লাখ মানুষের জন্য খাবার তৈরি সম্ভব।”

ত্রাণ না পৌঁছানোর কারণে হাসপাতালগুলোতে মৌলিক সরঞ্জামও নেই। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী অপুষ্টি ও ক্ষুধায় এখন পর্যন্ত ২৩৫ জন মারা গেছে, যাদের মধ্যে ১০৬ জন শিশু।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে বেসামরিক জনগণকে সহায়তা দেবে, তবে তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)–এর মাধ্যমে হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে জিএইচএফ স্থানের কাছে ৮৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যদিও জিএইচএফ এ সংখ্যা অস্বীকার করেছে।

এমএসএফের জরুরি সমন্বয়কারী আইতর জাবালগোগিয়াজকোয়া বলেন, “সামরিকায়িত খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।” এমএসএফ মহাসচিব ক্রিস লকইয়ার বিবিসিকে জানান, জিএইচএফ আসলে “একটি মৃত্যুকূপ” এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি “সুতোর ওপর ঝুলে আছে।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়, ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

Share.
Exit mobile version