মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

দেশব্যাপী শিশু-কিশোরদের মারাত্মক রোগ টাইফয়েড জ্বর থেকে রক্ষার জন্য টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আগামী ১২ অক্টোবর। ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা এই টিকা পাবেন। সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি-ইপিআই (EPI) এর মাধ্যমে বিনামূল্যে এ টিকা প্রদান করা হবে।

প্রথম ধাপে স্কুলে অধ্যয়নরত শিশু-কিশোরদের জন্য ক্যাম্পের মাধ্যমে টিকাদান চলবে প্রথম ১০ দিন। যারা স্কুলে যায় না, তাদের জন্য টিকা দেওয়া হবে পরবর্তী ৮ দিন স্থানীয় কেন্দ্রে। সব শিশু-কিশোরকে টিকা পেতে আগে নিবন্ধন করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জানান, “১২ অক্টোবর থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে আমরা এই টিকা দেব। স্কুলে ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রথম ১০ দিন টিকা দেওয়া হবে এবং স্কুলে না যাওয়া শিশুদের পরবর্তী ৮ দিন স্থানীয় কেন্দ্রগুলোতে দেওয়া হবে।”

দরিদ্র দেশগুলোতে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী এই টিকাদান কর্মসূচি আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স পরিচালনা করে। বাংলাদেশ বিশ্বের দশম দেশ হিসেবে গ্যাভির অর্থায়নে টাইফয়েড টিকা পাচ্ছে। আগামী বছর থেকে ইপিআইয়ের নিয়মিত সিডিউলে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত হবে।

দেশে প্রতি লাখ শিশুদের মধ্যে ১৬১ জন টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। কাঁপুনি, জ্বর, ডায়রিয়া, মাথা ব্যথা এবং জটিল ক্ষেত্রে যকৃত ও প্লিহা বড় হয়ে জীবনহানি ঘটতে পারে। তাই চিকিৎসকরা সব শিশু-কিশোরকে টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, “দামী এন্টিবায়োটিকও সবসময় টাইফয়েডের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। টিকাদানই নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত এবং ঝুঁকিহীন। এক ডোজের ইনজেকটেবল এই টিকা শিশু-কিশোরদের তিন থেকে সাত বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।”

Share.
Exit mobile version