সোমবার | আগস্ট ৩১ | ২০২৬

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রটিতে শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বর্তমানে শেষ পর্যায়ের জটিল ও সংবেদনশীল পরীক্ষাগুলো চলছে। প্রতিটি ধাপ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান জানান, আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। আগামী বছরের শুরুতে ইউনিটটির বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, এতে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। বর্তমান ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী এই সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সমান। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে এবং বছরে ২০ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জাহেদুল হাছান বলেন, বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব নির্ভর করবে বিকল্প হিসেবে কী ধরনের জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে তার ওপর।

নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরবচ্ছিন্নভাবে বেইসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। এতে তেল, গ্যাস ও কয়লার আমদানি কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার প্রভাবও কমবে।

Share.
Exit mobile version