দখলকৃত গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি ও বিমান হামলায় কমপক্ষে ৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৬ জনই নিহত হন ত্রাণ সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময়। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরের কাছে ত্রাণের জন্য অপেক্ষমাণ জনতার ওপর গুলিবর্ষণে ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানান সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল। উত্তর গাজার জিকিম সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে আরও ২০ জন নিহত এবং ১০০ জন আহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই ছিলেন খাদ্য ও চিকিৎসাসহ ত্রাণ সংগ্রহের অপেক্ষায়।
এছাড়া মধ্য গাজার একটি বিতরণ কেন্দ্রের কাছে ত্রাণের জন্য অপেক্ষাকালে ইসরায়েলি গুলিতে ৬ জন নিহত এবং ২১ জন আহত হন।
অন্যদিকে, ভোরে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় আরও ৫ জন নিহত হয়েছেন। আল-মাওয়াসিকে যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ ‘নিরাপদ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তি ও অস্বীকৃতি
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, খান ইউনিসের কাছে মোরাগ করিডোরে ‘গাজানদের একটি জটলা’ লক্ষ্য করে তারা ‘সতর্কতামূলক গুলি’ চালায়। তবে তারা দাবি করেছে, এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে তাদের জানা নেই।
জিকিম এবং মধ্য গাজার হামলার ব্যাপারে সেনাবাহিনী জানায়, তারা ঘটনাগুলো নিয়ে তদন্ত করছে। তবে তারা মধ্য গাজায় কোনো ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মাঠপর্যায়ে সাংবাদিক প্রবেশ ও স্বাধীন যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত হওয়ায় নিরপেক্ষভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা কঠিন। তবুও ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, জিকিমের কাছে নিহত ব্যক্তিদের লাশ উত্তর গাজার হামাদ হাসপাতালে আনা হয়, যেখানে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে তারা ওই হামলারই শিকার।
‘ত্রাণের লাইন মানেই মৃত্যু’
গাজার বাসিন্দা আদহাম ইউনুস বলেন, “যারা বলে এটা ‘সবুজ এলাকা’, তারা মিথ্যা বলে। তারা বলে ত্রাণ বিতরণ নিরাপদ—কিন্তু আমরা ত্রাণ নিতে গিয়ে মরছি। গাজায় আর কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মাহমুদ ইউনুস জানান, “বোমা পড়ার পর আমরা শুধু নারীদের আর্তনাদ শুনছিলাম, সবাই রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। পুরো পরিবার জখম হয়েছে।”
মে মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের চারটি প্রধান বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে। এইসব স্থানে প্রায় প্রতিদিনই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটছে বলে রিপোর্ট রয়েছে।
ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গত ২২ মাসে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির সরবরাহ ভয়াবহভাবে ব্যাহত হয়েছে। জেনারেটরের জ্বালানি না থাকায় বহু হাসপাতাল কার্যত অচল।
জাতিসংঘের চার্টার, জেনেভা কনভেনশন ও অন্যান্য মানবিক আইনে যুদ্ধবিধি স্পষ্ট: ত্রাণ লাইনে হামলা যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু বাস্তবে গাজায় সেই ন্যূনতম মানবিক সুরক্ষাটুকুও এখন অনুপস্থিত।
এদিকে হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসসাম ব্রিগেডস দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ গাজার মোরাগ করিডোরে ইসরায়েলি একটি নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড সেন্টারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে স্বীকার করেনি।


