আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বাজারে জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) তাৎক্ষণিকভাবেে একই পথে হাঁটবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ, দেশটির অর্থনীতি একদিকে প্রবৃদ্ধি হ্রাসের চাপে রয়েছে, অন্যদিকে শেয়ারবাজার অস্বাভাবিক উত্থানে অস্থির হয়ে আছে।
চীনের নীতিনির্ধারকরা বর্তমানে জটিল এক দ্বিধার মধ্যে আছেন। কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা জরুরি হলেও, অতিরিক্ত নীতি প্রণোদনা দিলে শেয়ারবাজারে অযাচিত উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতাও তাদের সাবধান করেছে। ২০১৪-১৫ সালে আক্রমণাত্মক সুদহার কমানো ও বিনিয়োগকারীদের অতি উচ্ছ্বাস শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ বাজার ধস ডেকে এনেছিল।
ফেডারেল রিজার্ভের ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর বৈঠকে এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট সুদহার কমানোর সম্ভাবনা প্রবল। বছরের শেষে আরও দুটি হার কমতে পারে বলে বাজারে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এতে চীনেরও কিছুটা নীতি গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলেও পিবিওসি সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একজন নীতিনির্ধারক বলেন, “ফেডের সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য সুযোগ তৈরি করবে, তবে আমরা অন্ধভাবে অনুসরণ করব না। সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির অবস্থার ওপর।”
বর্তমানে চীনের শেয়ারবাজারে প্রবল উত্থান চলছে। এমন অবস্থায় সুদহার কমালে বাজারে অতিরিক্ত উত্তাপ যোগ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। নোমুরার প্রধান চীন অর্থনীতিবিদ টিং লু মনে করেন, যদি বাজারে এ উল্লম্ফন অব্যাহত থাকে, তবে পিবিওসি হার কমানোর পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে পারে। তবে বাজারে সংশোধন এলে সামান্য মাত্রায় (১০ বেসিস পয়েন্ট) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত পিবিওসি নীতিসূচক সুদহার ১০ বেসিস পয়েন্ট এবং ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ রেশিও ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে, যা মে মাসে বৃহত্তর প্রণোদনার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবুও প্রবৃদ্ধি দুর্বল রয়ে গেছে। জুলাই মাসে শিল্পোৎপাদন আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে, খুচরা বিক্রি কমেছে এবং নতুন ঋণ গত দুই দশকে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে। আগস্টে রপ্তানিও হ্রাস পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫.২% প্রবৃদ্ধি হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে তা ৫%-এর নিচে নেমে আসতে পারে। এতে বার্ষিক লক্ষ্য পূরণ হলেও চাপ কমবে না। এ অবস্থায় নতুন খরচ পরিকল্পনা ও আবাসন খাতে সহায়তা প্যাকেজের সম্ভাবনা রয়েছে।
নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, শেয়ারবাজারের উত্থান পরিবারগুলোর আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পূরণ করবে এবং ভোগ ব্যয় বাড়াবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এ উত্থান সামগ্রিক অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে চীনের নীতি সুদহার রেকর্ড নিম্ন ১.৪%-এ দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৮ সালে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১১৫ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর গড় রিজার্ভ রেশিও ১৫% থেকে নেমে এসেছে ৬.২%-এ। ফলে বড় ধরনের নতুন সুদহার কমানোর সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে।

