মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় এবং এক কোটি ২০ লাখ টনের বেশি পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই সময়ে প্রায় ৯০০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে নোঙর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমপিএর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাকরুজ্জামান জানান, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দর ১ কোটি ৪ লাখ টন পণ্য পরিবহন করেছে এবং ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে—যা ছিল নতুন রেকর্ড। সে সময় বন্দরের মুনাফা দাঁড়ায় ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২০৩ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪৮ দিনে (১৭ আগস্ট পর্যন্ত) মোংলায় ১০৩টি বিদেশি জাহাজ নোঙর করেছে এবং প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডেল করেছে। এর মধ্যে আটটি জাহাজ বহন করেছে ৫ হাজার ৩৩২ টিইইউ কনটেইনার। শুধু জুলাই মাসেই বন্দরে ৪ হাজার ৪৫৯ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল হয়েছে, ৫১৮টি পুরোনো গাড়ি আমদানি হয়েছে এবং ৬.৫ লাখ টন পণ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে মোংলাকে গড়ে তুলতে বন্দরটিতে ব্যাপক রূপান্তর প্রক্রিয়া চলছে। চ্যানেল খনন, কনটেইনার টার্মিনাল সম্প্রসারণ, শুল্ক ও কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও ভুটানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে মোংলার অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে।
এমপিএ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, “বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারলে বছরে দেড় হাজার বিদেশি জাহাজ নোঙর করতে পারবে। এক লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল, দুই কোটি টন পণ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ২০ হাজার পুরোনো গাড়ি ক্লিয়ার করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জিত হলে জাতীয় বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলে হাজারো নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। “আমাদের লক্ষ্য হলো অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে মোংলার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো।”
কৌশলগত অবস্থান ও ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার কারণে মোংলা বন্দর দ্রুতই চট্টগ্রাম বন্দরের একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের চাপ কমবে এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
বন্দর ব্যবহারকারী শিপিং এজেন্ট, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট, স্টিভেডরসসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে এমপিএ। এছাড়া জাহাজ নোঙর ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবসা উন্নয়ন স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।

