আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নিশ্চিত করেন, “তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ছুটিতে থাকবেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একটি অংশ শাহীনুলকে অবিলম্বে ছুটিতে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর ও দুই নির্বাহী পরিচালক নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। যদিও তিনি ভিডিওটি ভুয়া দাবি করেছেন, প্রাথমিক ফ্যাক্টচেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা সঠিক বলে জানিয়েছে। গতকাল তিনি অফিসেও আসেননি।
ঘটনার পেছনে আলোচনায় রয়েছে বিতর্কিত পরিবহন ব্যবসায়ী এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং সেখানে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া। এই ঘটনায় অনৈতিকতা আছে কিনা, তা দুদক তদন্ত করছে।
সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে এনা পরিবহনের মালিক ও পরিবারের ৫০টি অ্যাকাউন্টে ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দুদকের অভিযোগ, পূর্বের সরকারের সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও অনেকের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের পর সেখান থেকেও অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
শাহীনুল ইসলাম সমকালকে জানান, “এনা পরিবহনের আবেদনের প্রেক্ষিতে কিছু টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ব্যবসার স্বার্থে এ ধরনের সুযোগ বিএফআইইউ অনেক প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে। এখানে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়নি।”
অবশ্য, সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তদন্ত চলছে।
সূত্র মতে, শাহীনুলের পদে নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। গত বছরের ৮ আগস্ট বিএফআইইউর তৎকালীন প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস পদত্যাগ করার পর দীর্ঘদিন খালি থাকা পদে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শাহীনুলকে বসানো হয়। তবে তিন সদস্যের সার্চ কমিটির সুপারিশ তালিকায় তার নাম ছিল না।

