গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৮ ফিলিস্তিনি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাতে উত্তর গাজার জিকিম ক্রসিং এলাকায় এই প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
জিকিম ক্রসিং বর্তমানে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ। নিহত ও আহতদের অনেকেই খাবারের সন্ধানে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। গাজার শিফা হাসপাতাল এবং আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শতাধিক আহত ও নিহতকে বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে।
কিন্তু কে গুলি চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
গাজার জরুরি বিভাগের প্রধান ফারেস আওয়াদ জানিয়েছেন, আহতদের একটি অংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিতে আরও অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই খাদ্যের জন্য অপেক্ষমাণ অবস্থায় ছিলেন।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিকে ইসরায়েলি হামলা, অন্যদিকে খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনাহারে একজন শিশুসহ আরও সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। চলমান সংকটে এখন পর্যন্ত অনাহারে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ এবং প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা ৬৫।
দীর্ঘদিন ত্রাণ প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকার পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইজরাইল কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করলেও গাজায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট দাবি করেছে, মঙ্গলবার ২২০টিরও বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে।
তবে যুদ্ধবিরতির সময় প্রতিদিন যেখানে ৫০০–৬০০টি ট্রাক ঢুকত, সেখানে এখনকার সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সহায়তা বিতরণেও তারা হিমশিম খাচ্ছে, কারণ অধিকাংশ ট্রাক ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জনতার ভিড়ে পড়ে খালাস হয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) থেকেও খাবার নিতে গিয়ে মে মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত এক হাজার ফিলিস্তিনি।
গাজায় সহিংসতা ও অনাহারে মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ বাড়ছে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে নতুন করে জোরালো হচ্ছে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের দাবি। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পর সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা ও মাল্টা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি মন্ত্রিসভার এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন। এর আগে জাতিসংঘে মাল্টার স্থায়ী সচিব ক্রিস্টোফার কুটাজার এ অবস্থান জানান।
তবে এ স্বীকৃতিকে ‘সন্ত্রাসবাদের পুরস্কার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘোষণার জবাবে এক্সে দেওয়া পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, “আজ যদি আমাদের সীমান্তে একটি জিহাদি রাষ্ট্র গড়ে তোলা হয়, আগামীকাল সেটিই আপনাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।”

