আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণ নিয়ে ১১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সালমান এফ রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
আজ সোমবার তাকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত সংস্থা দুদকের পক্ষ থেকে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন এবং পুনরায় কারাগারে পাঠান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ ও আত্মসাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অর্থ ব্যাক্তিগত ব্যবসা ও বিদেশে পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ৩ জুন দুদক সালমান এফ রহমান, তার ছেলে শায়েন এফ রহমান এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানসহ মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলাগুলোর মধ্যে একটিতে আজ তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এর আগে, গত বছরের ১৩ আগস্ট, একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নৌপথে পালানোর চেষ্টাকালে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর তাকে রাজধানীতে চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে করা একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। সে সময় বিভিন্ন মামলায় তাকে পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আইএফআইসি ব্যাংক সংক্রান্ত এ দুর্নীতির মামলাকে বর্তমান সরকার একটি “প্রতীকী মামলা” হিসেবে দেখছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ মামলায় পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও গভীর দৃষ্টি রয়েছে। দুদকের দাবি, “এটি কোনো একক ব্যক্তির দুর্নীতির ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে জনগণের অর্থ লুটপাট করেছে।”

