চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি (চরম দণ্ড) দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১–এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে তিনি বলেন, “সকল অপরাধের প্রাণভোমরা শেখ হাসিনা। সে অনুশোচনাহীন ও হৃদয়হীন অপরাধী। তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ নাগরিক হত্যার দুঃসাহস না করে।”
তাজুল ইসলাম সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ‘গ্যাং অব ফোর’-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তারও সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। প্রসিকিউটর বলেন, রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতকে সহায়তা করেছেন, তাই তার বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অপরাধীদের সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও আবেদন করেন।
এদিন প্রসিকিউশনের পঞ্চম দিনের শুনানি শেষে আদালত সোমবার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন। এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের পরিবার, আন্দোলননেতা নাহিদ ইসলাম ও সাংবাদিক ড. মাহমুদুর রহমানসহ মোট ৫৪ জন।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম।অন্যদিকে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং রাজসাক্ষী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ যুক্তিতর্কে অংশ নেন।
গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, কামাল ও সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও দুটি মামলা ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে—একটি গুম-খুন, অন্যটি হেফাজতের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট।

