জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার ধানমন্ডিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. রিয়াজ (২৩) নামে এক তরুণ নিহত হয়। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং দলীয় নেতা নুরু মিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব এ আদেশ দেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা চারজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত সালমান, আনিসুল ও নুরুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আরেক আসামি সোহানুর রহমান আজাদকে রিমান্ডে নেবেন কি না—তা পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিচারক।
গত বছরের ৪ আগস্ট সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে জিগাতলা যাওয়ার পথে রিয়াজ গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৭ আগস্ট তিনি মারা যান। এরপর তার মা শাফিয়া বেগম ৯ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন।
আজ আদালতে চার আসামিকে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করলেও শুনানি করেননি। আদালত তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন আরেক মামলায় আলোচিত সিদ্ধান্ত আসে। যাত্রাবাড়ী থানায় করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ইনু, মেননসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন একই বিচারক।
গ্রেপ্তার দেখানো বাকি নেতারা হলেন: সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনু, সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার টুসী।
আদালতে হাজির করা হলে তাদের সবাইকে হ্যান্ডকাফ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরানো ছিল। পরে পুলিশ এসব খুলে নেয়। কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। সাংবাদিকরা একাধিকবার জিজ্ঞাসা করলেও সবাই ছিলেন নীরব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী জানান, আগস্টের আগে কেউ মিডিয়ায় কথা বলতে চাচ্ছেন না—কারণ মিডিয়ায় কথা বললে শাস্তি বাড়তে পারে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, “আসামিরা এখনো মিথ্যা বলছে। তারা দাবি করছে, নির্দোষ। অথচ তদন্তে স্পষ্ট প্রমাণ আছে যে, এই হত্যাকাণ্ডে তাদের নির্দেশ ও মদদ ছিল।”
এদিকে, কারাগারে থাকা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক পড়ার জন্য দুটি বই চেয়েছেন—একটি ‘অক্সফোর্ড ডিকশনারি’ এবং অপরটি আত্মউন্নয়নমূলক বই Don’t Worry Be Grumpy। এর আগে তিনি আইনসংক্রান্ত পাঁচটি বই চেয়ে ছিলেন। তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জানান, পরিবারের মাধ্যমে বইগুলো কারাগারে পাঠানো হবে।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া নেতারা আদালতে মুখ না খুললেও, দেশের রাজনীতিতে বিষয়টি বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


