যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট মাসে চাকরির প্রবৃদ্ধি তীব্রভাবে কমেছে। একই সময়ে বেকারত্ব বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অর্থনীতির দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বাস্তবতা মাসের মাঝামাঝি ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার কমাতে বাধ্য করবে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে নন-ফার্ম খাতে মাত্র ২২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার, যদিও আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা ৭৩ হাজার বলা হয়েছিল। মতো গত চার বছরের মধ্যে চলতি বছরের জুনে প্রথমবারের চাকরির সংখ্যা কমেছে। ফলে অর্থনৈতিক স্থবিরতার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমবাজারে চাপ তৈরির কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি। বিশেষ করে আমদানি শুল্ক, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে কর্মসংস্থানের হার ধীর হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এফডব্লউ-বন্ডস (FWDBONDS)’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুপকি বলেন, “অর্থনীতি এখন মন্দার একেবারে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। কোম্পানিগুলো নিয়োগ দিচ্ছে না এবং এর জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করা যায়।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে ৩১ হাজার চাকরি সৃষ্টি হলেও এটি গত এক বছরের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম। সমাজকল্যাণ খাতে ১৬ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে সরকারি খাতে ১৫ হাজার চাকরি কমেছে এবং জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই খাতে ৯৭ হাজার কর্মসংস্থান হারিয়েছে। উৎপাদন খাতে টানা চার মাস চাকরি কমেছে। বাণিজ্য, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খাতেও কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে।
তবে মজুরি সামান্য বেড়েছে। আগস্টে গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় ০.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা জুলাইয়ের সমান। বার্ষিক হিসাবে মজুরি বৃদ্ধি হয়েছে ৩.৭ শতাংশ। তবে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে অন্তত এক চতুর্থাংশ শতাংশ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বছরের বাকি দুটি বৈঠকেও আরও সুদ কমানো হতে পারে। বর্তমানে দেশটির সুদের হার ৪.২৫ থেকে ৪.৫০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার নিম্নমুখী, ডলার দুর্বল এবং ট্রেজারি বন্ডের ফলন কমেছে। এদিকে আগস্টে গৃহস্থালি সমীক্ষা অনুযায়ী শ্রমবাজারে ৪ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ যুক্ত হলেও কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৮ হাজার। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে এবং গড় বেকারত্বের সময়সীমা পৌঁছেছে ২৪.৫ সপ্তাহে, যা গত বছরের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং যদি প্রবণতা অব্যাহত থাকে তবে আগামী প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হবে।
.
রয়টার্স এবং সিএনএন অবলম্বনে লিখেছেন আকীল আকতাব।

