নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার অভিযোগে অসত্য ও যাচাইবিহীন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে পিড়াকৈর স্কুল মোড়ে পিড়াকৈর ও আশপাশের গ্রামের শতাধিক মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সম্প্রতি পিড়াকৈর–শংকরপুর মরাঘাটি এলাকায় সরকারি রাস্তার দুই ধারের ২৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদের একটিতে ‘বিএনপি পরিচয়দানকারী নেতা ও পশুচিকিৎসক সানোয়ার হোসেন’-এর নাম উল্লেখ করা হলেও তার বক্তব্য না নেওয়া, ঘটনা যাচাই না করা এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান একে এম নাজমুল হক নাজু। তিনি বলেন, “আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন পিড়াকৈর গ্রামের ছয় নারী উপকারভোগীকে গাছগুলো দেওয়া হয়েছিল। তারা নিজেরাই এগুলো রোপণ ও পরিচর্যা করেছেন। গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদের; পরিষদের অনুমতিক্রমেই উপকারভোগী ও ইউপি গাছ বিক্রি করতে পারে।”

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইছাহাক আলী, বুড়িমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র, পিড়াকৈর কেন্দ্রীয় মসজিদের সভাপতি আব্দুল গফুর ও কোষাধ্যক্ষ সেকেন্দার আলী। তারা জানান, মরাঘাটির ইউক্যালিপটাস গাছ বিক্রির অর্থ পাওয়ার কথা ইউনিয়ন পরিষদ, ছয় নারী উপকারভোগী এবং স্থানীয় মসজিদ-মন্দিরের।
ইউপি সদস্য আনসার আলী ভুট্টো বলেন, “চেয়ারম্যানকে জানিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। গাছ বিক্রির টাকা ইউনিয়ন পরিষদ, উপকারভোগী নারী এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার কথা রয়েছে।”
রাস্তার দুই ধারের গাছগুলোর উপকারভোগী ছয় নারী জানান, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেই তারা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেন। আবেদা বেগম বলেন, “গাছ বড় হওয়ার পর রাতের অন্ধকারে অনেকবার গাছ কেটে নিয়ে গেছে। তাই আমরা বলি, গাছ বিক্রি করলে উপকার হবে। কিন্তু সংবাদে সানোয়ার ভাইয়ের নাম দেখে বিস্মিত হয়েছি। ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
উপকারভোগী নাসিমা বেগম বলেন, “চেয়ারম্যান–মেম্বারের নির্দেশেই সব করেছি। কারো ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অভিযুক্ত হিসেবে নাম প্রকাশিত সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন যুবদলের দায়িত্ব পালন করছি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই আমার নাম জড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার মতামত নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। আমার সঙ্গে একবারও কথা বলা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “মান্দা উপজেলা বিএনপির নাম টেনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদটি তৈরি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন এবং দলকে হেয় করার প্রচেষ্টা।”

