সোমবার | মার্চ ২ | ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ১৯ বছর বয়সী ছাত্রী খাদিজা শেখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। এই কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বম্বে হাইকোর্ট গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে।

বিচারপতি গৌরী গডসে ও সোমশেখর সুদর্শনের বেঞ্চ রাজ্য সরকার ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কড়া সমালোচনা করে বলেন, একটি মেয়ে ভুল করেছে, স্বীকারও করেছে। তাই বলে তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করা কেন, যেন তিনি কোনো বড় অপরাধী?

আদালত বলেন, এভাবে একজন ছাত্রীর জীবন নষ্ট করা যায় না। তাঁরা নির্দেশ দেন, কোনো অজুহাতে যেন তাঁর জামিনে মুক্তি দেরি না হয় এবং তিনি যেন নির্ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।

৭ মে খাদিজা শেখ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে সরকারের ‘অপারেশন সিঁদুর’ কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করেন। পরদিনই পোস্টটি সরিয়ে নেন। কিন্তু এরপর ৯ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, এবং সঙ্গে সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে বহিষ্কার করে। তাদের দাবি, খাদিজার পোস্ট কলেজ ও সমাজের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে এবং তিনি ‘দেশবিরোধী’ মনোভাব দেখিয়েছেন।

খাদিজার ওপর অনলাইনে খুনের হুমকিও আসে। এরপর তিনি হাইকোর্টে যান। গরমের ছুটির মধ্যেও আদালত তাঁর আবেদন শুনে জামিন মঞ্জুর করে এবং রাজ্য সরকারের ‘উগ্র আচরণ’-এর তীব্র সমালোচনা করে।

বিচারপতিরা বলেন, কেউ নিজের মত প্রকাশ করলেই তাঁকে জেলে পাঠানো বা পড়াশোনার সুযোগ কেড়ে নেওয়া রাষ্ট্রের কাজ নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা নয়, সহনশীলতা ও মতভেদের মূল্যবোধ শেখানো।

আদালত খাদিজাকে পুলিশ ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে – ভয় নয়, সাহস নিয়ে।

Share.
Exit mobile version