রাজধানীর শাহবাগ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় আজ একাধিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রচণ্ড জনসমাগম ও যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সময়ে বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের’ দাবিতে জনসভা করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ছাড়া ১ থেকে ৪ আগস্ট প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি পালন করছে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী।
ডিএমপি জানায়, আজ এইচএসসি, সমমান এবং বিসিএস পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে। ফলে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। বিশেষ করে শাহবাগ মোড়, শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথগুলোতে যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায়, পরীক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় হাতে রেখে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিকল্প রুট নির্দেশনা
যানজট এড়াতে ডিএমপি নিম্নলিখিত বিকল্প রুট ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে:
উত্তর দিক থেকে আগত যানবাহন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে বাম দিকে হেয়ার রোড বা মিন্টু রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। পশ্চিম দিক থেকে আগত গাড়িগুলোকে কাটাবন মোড় থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে ডান দিকে নীলক্ষেত-পলাশী বা বাম দিকে হাতিরপুল-বাংলা মোটর হয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট ও কদম ফোয়ারা দিক থেকে আসা যানবাহনকে মৎস্য ভবনের পর শাহবাগ অভিমুখ না ধরে হেয়ার রোড বা শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি (মগবাজার রোড) ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কাকরাইল দিক থেকে আগত যানবাহনকে মৎস্য ভবনের পর শাহবাগ এড়িয়ে হাইকোর্ট হয়ে গুলিস্তান বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দিকে যেতে বলা হয়েছে।
টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্য দিক থেকে শাহবাগ অভিমুখে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। যানবাহনগুলোকে দোয়েল চত্বর বা নীলক্ষেত হয়ে চলতে হবে। এছাড়া শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সব প্রবেশপথ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডিএমপি নগরবাসীকে যথাযথ সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। তবে যানবাহন চালক ও সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা ও ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

